
পাবনায় ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আকরাম হোসেন মন্ডলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ইজারাদারের নিকট থেকে জোরপূর্বক হাটের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে, অভিযোগ অসত্য দাবী করে বিষয়টিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের পদ্মবিলা মৌজার আরএস ১৭২৭ খতিয়ানে তাদের কেনা ২৫ শতাংশ জমি আছে। জামায়াত রোকন ও ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আকরাম হোসেন মন্ডল জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। এ বিষয়ে ভূমি আদালতে মামলা দায়ের হলে রায়ও ভুক্তভোগীর পক্ষে আসে। গ্রাম্য সালিশে কখনোই আকরাম মন্ডল জমি দখলে রাখার স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমির দখল ছাড়ছেন না।
শফিকুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সদর আসনে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইনের প্রশ্রয়ে আকরাম হোসেন মন্ডল আতাইকুলা ইউনিয়নে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আকরাম মন্ডল একই মৌজায় আব্দুর রহিম ও খন্দকার আলাউদ্দিনের বেশ কিছু জমিও জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। প্রিন্সিপাল ইকবালের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ৫ আগস্টের পর পাবনার ঐতিহ্যবাহী পুষ্পপাড়া হাটের নিয়ন্ত্রণ বৈধ ইজারাদার আব্দুস সালামের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে আকরাম মন্ডল জোরপূর্বক খাজনা তুলছেন। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে আকরাম মন্ডলের সিন্ডিকেট। এমনকি গত ১৯ মার্চ প্রিন্সিপাল ইকবালের সুপারিশে ভুয়া সংগঠনের নামে সরকারি চাউল তুলে লুটপাট করে খেয়েছে তাদের লোকজন।
আতাইকুলা হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আকরাম মন্ডল হাট দখল করেছে। আকরাম মন্ডল প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইনের লোক সেটা সবাই জানে। এখন যে পরিস্থিতি অভিযোগ করাও কঠিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী আব্দুল ওহাব, আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, প্রিন্সিপাল ইকবালের সহায়তায় আকরাম মন্ডলের সকল অপকর্ম জেলা জামায়াতের আমীর আবু তালেব মন্ডল ও কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম খানকে জানাই। তারা প্রতিকারের আশ্বাস দিলেও কোনই কাজ হয়নি। আমরা এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আকরাম হোসেন মন্ডল বলেন, সংবাদ সম্মেলনে অসত্য অভিযোগ করা হয়েছে। আমি কারো জমি দখল করিনি। শফিকুল যে জমির মালিকানা দাবি করছে তা আমার কেনা সম্পত্তি। আমি কাগজ পত্র দেখানোর জন্য তাদের ডেকেছি। কিন্তু তারা তা না করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেবার চেষ্টা করছে। হাট দখলের অভিযোগও মিথ্যা। এসব ঘটনায় নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল ইকবালের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইনের, জমি নিয়ে আকরাম ও শফিকুলের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব চলছে। দুজনেই জমি ক্রয় করেছে বলে দাবি করেছে। জমি দখলে রাখায় আমার সহযোগিতা নেই। ৫ আগস্টের পর হাট পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিলে মৌখিক সমঝোতায় অন্যদের সাথে আকরামও যুক্ত হয়েছিলো। তবে, এটি আমাদের দলীয় নীতি বিরুদ্ধ হওয়ায় তাকে সরে আসতে বলা হয়েছে। সরকারি চাউল পাওয়া সংগঠনটির সাথেও আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি মহল চক্রান্ত করে মিথ্যা রটনা করছে।